লোকাল লিংক বিল্ডিং টিউটোরিয়াল (Local Link Building Tutorial)

 Local Link Building Tutorial

প্রথাগত ব্যাকলিংক (যেমন: গেস্ট পোস্ট বা পিবিএন) থাকা সত্ত্বেও কেন অনেক ব্যবসা নির্দিষ্ট একটি শহরে বা গুগল ম্যাপে র‍্যাংক করতে পারে না?

কারণ সাধারণ ব্যাকলিংকগুলো আপনার ওয়েবসাইটের গ্লোবাল অথরিটি বাড়ালেও, গুগলকে এটি বোঝাতে পারে না যে আপনার ব্যবসাটি ঠিক কোন নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। লোকাল এসইও-তে ভালো করতে হলে শুধু 'লিংক' নয়, বরং 'লোকাল লিংক' প্রয়োজন।

লোকাল লিংক বিল্ডিং (Local Link Building) কী?

আপনার নিজের শহর, জেলা বা দেশের স্থানীয় অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে আপনার ওয়েবসাইটে ব্যাকলিংক বা লিংক জুস নিয়ে আসাকেই লোকাল লিংক বিল্ডিং বলে।

লোকাল সাইটেশন ও সাধারণ লিংক বিল্ডিংয়ের সাথে এর মূল পার্থক্য কোথায়?

সাধারণ লিংক বিল্ডিং বনাম লোকাল লিংক বিল্ডিং: 

সাধারণ লিংক বিল্ডিংয়ের মূল লক্ষ্য থাকে ডোমেইন অথরিটি (DA) বাড়ানো, যেখানে ওয়েবসাইটের ভৌগোলিক অবস্থান (Geographic Location) খুব একটা গুরুত্ব পায় না। কিন্তু লোকাল লিংক বিল্ডিংয়ের মূল লক্ষ্য হলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা লোকেশনের রেলেভেন্সি (Relevance) ও ট্রাস্ট বাড়ানো।

লোকাল সাইটেশন বনাম লোকাল লিংক বিল্ডিং: 

লোকাল সাইটেশনের মূল ফোকাস থাকে ইন্টারনেটে আপনার ব্যবসার নাম, ঠিকানা ও ফোন নাম্বার (NAP Consistency) ছড়িয়ে দেওয়া (অনেক সময় সেখানে লাইভ ব্যাকলিংক নাও থাকতে পারে)। অন্যদিকে, লোকাল লিংক বিল্ডিংয়ের মূল কাজ হলো স্থানীয় হাই-কোয়ালিটি সাইটগুলো থেকে সরাসরি আপনার সাইটের জন্য একটি ডাফোলো (Do-follow) বা নো-follow লিংক আদায় করা, যা গুগল ম্যাপ এবং সার্চ রেজাল্ট—উভয় জায়গাতেই দ্রুত র‍্যাংক বুস্ট দেয়।

লোকাল লিংক বিল্ডিং কেন আপনার ব্যবসার জন্য গেম-চেঞ্জার? (Why it Matters)

লোকাল এসইও-র দুনিয়ায় লোকাল লিংক বিল্ডিংকে একটি গোপন অস্ত্র বলা যায়। সাধারণ ব্যাকলিংক যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়, সেখানে লোকাল লিংক আপনার ব্যবসাকে স্থানীয় ক্রেতা এবং সার্চ ইঞ্জিনের কাছে নির্ভরযোগ্য করে তোলে। নিচে এর ৩টি মূল কারণ আলোচনা করা হলো: 

গুগল ম্যাপ ও ৩-প্যাক (3-Pack) বুস্ট

গুগল যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার সার্চ রেজাল্ট বা গুগল ম্যাপের র‍্যাংকিং নির্ধারণ করে, তখন তারা প্রধান ৩টি বিষয় দেখে: Distance (দূরত্ব), Prominence (পরিচিতি বা গুরুত্ব), এবং Relevance (প্রাসঙ্গিকতা)। স্থানীয় কোনো হাই-কোয়ালিটি ওয়েবসাইট (যেমন: আপনার শহরের কোনো জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল, কোনো স্থানীয় ব্লগ বা কমিউনিটি সাইট) থেকে যখন আপনার সাইটে একটি লিংক আসে, তখন গুগল সেটিকে একটি শক্তিশালী 'লোকাল ভোট' বা 'Prominence Signal' হিসেবে গণ্য করে। এর ফলে গুগলের অ্যালগরিদম বুঝতে পারে যে আপনার ব্যবসাটি ওই নির্দিষ্ট এলাকায় বেশ পরিচিত এবং নির্ভরযোগ্য, যা আপনার গুগল বিজনেস প্রোফাইলকে দ্রুত ম্যাপের শীর্ষ ৩-প্যাকে (3-Pack) নিয়ে আসতে সাহায্য করে। 

জিও-টার্গেটেড ট্রাফিক (Geo-targeted Traffic)

সাধারণ ব্যাকলিংকের মাধ্যমে আপনার সাইটে হয়তো অনেক ট্রাফিক আসতে পারে, কিন্তু তারা আপনার আসল কাস্টমার নাও হতে পারে (যেমন: আমেরিকার কোনো ব্লগ থেকে আসা ভিজিটর ঢাকার একটি রেস্টুরেন্ট বা সার্ভিস সেন্টার থেকে সেবা নেবে না)। অন্যদিকে, লোকাল লিংকের মাধ্যমে যে ভিজিটররা আপনার সাইটে আসে, তারা সবাই জিও-টার্গেটেড বা আপনার নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দা। তারা ইতিমধ্যে আপনার এলাকায় ওই পণ্য বা সেবাটি খুঁজছে। তাই সাধারণ ব্যাকলিংক থেকে আসা ট্রাফিকের তুলনায় লোকাল লিংক থেকে আসা ট্রাফিকের মাধ্যমে সরাসরি বিক্রয় বা কাস্টমার রূপান্তরের (Conversion Rate) সম্ভাবনা বহুগুণ বেশি থাকে।

কম প্রতিযোগিতা (Low Competition)

গ্লোবাল বা আন্তর্জাতিক কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে গেলে আপনাকে সারা বিশ্বের হাজার হাজার বড় বড় ওয়েবসাইটের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয়, যা বেশ কঠিন এবং ব্যয়বহুল। কিন্তু লোকাল লিংক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ থাকে শুধুমাত্র আপনার নির্দিষ্ট শহর বা এলাকার গুটিকয়েক প্রতিদ্বন্দীর সাথে। বেশিরভাগ স্থানীয় ব্যবসাই প্রফেশনাল লোকাল লিংক বিল্ডিং করে না, তারা বড়জোর কিছু বেসিক সাইটেশন তৈরি করে রেখে দেয়। তাই আপনি যদি একটু কৌশল খটিয়ে কয়েকটি ভালো লোকাল ব্যাকলিংক সংগ্রহ করতে পারেন, তবে খুব কম প্রতিযোগিতা পার করেই সার্চ রেজাল্টের শীর্ষে স্থান করে নেওয়া সম্ভব।

লোকাল ব্যাকলিংক পাওয়ার ১০টি সুপার-ইফেক্টিভ কৌশল (Actionable Strategies)

লোকাল ব্যাকলিংক পাওয়ার জন্য প্রথাগত ব্যাকলিংক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কিছুটা ভিন্নভাবে চিন্তা করতে হয়। নিচে এমন ৬টি প্রধান ও কার্যকরী কৌশল বিস্তারিত আলোচনা করা হলো (পরবর্তী পার্টে বাকি ৪টি বোনাস কৌশল যুক্ত করা যাবে):

ক. লোকাল ডিরেক্টরি এবং সাইটেশন (Citations)

এটি হলো লোকাল লিংক বিল্ডিংয়ের প্রথম এবং সবচেয়ে সহজ ধাপ। বিভিন্ন নামী বিজনেস ডিরেক্টরি সাইটে (যেমন: Yelp, YellowPages কিংবা দেশের ভেতরের BD Yellow Pages) আপনার ব্যবসার তথ্য তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে এই লিংকগুলো পাওয়া যায়।

কৌশল: লিস্টিং তৈরি করার সময় আপনার ব্যবসার NAP+W (Name, Address, Phone, Website) তথ্য যেন সম্পূর্ণ নিখুঁত থাকে। অনেক ডিরেক্টরি সাইট সরাসরি "Do-follow" বা "No-follow" লিংক দেয়, যা গুগলের কাছে একটি প্রাথমিক লোকাল ট্রাস্ট সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে।

খ. স্থানীয় স্পন্সরশিপ (Local Sponsorships)

আপনার নিজের এলাকার বিভিন্ন ছোট-বড় ইভেন্ট, ক্লাব বা সংস্থাকে সাহায্য করার মাধ্যমে অত্যন্ত শক্তিশালী লোকাল লিংক পাওয়া সম্ভব।

কৌশল: এলাকার কোনো স্থানীয় স্পোর্টস টিম, চ্যারিটি ফাউন্ডেশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা স্কুলের ছোট কোনো ফান্ডে স্পন্সর বা অনুদান দিন। এই সংস্থাগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে সাধারণত একটি 'Sponsors' বা 'Partners' পেজ থাকে। সেখান থেকে আপনার ওয়েবসাইটে যে লিংকটি আসবে, তার অথরিটি ও গুগলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হবে আকাশচুম্বী।

গ. লোকাল ব্লগিং ও গেস্ট পোস্টিং

আপনার শহর বা দেশের জনপ্রিয় ব্লগার, লোকাল ইনফ্লুয়েন্সার বা ম্যাগাজিন সাইটগুলোকে টার্গেট করে কন্টেন্ট রাইটিং বা গেস্ট পোস্টিং করা আরেকটি দারুণ উপায়।

কৌশল: তাদের সাথে যোগাযোগ করে বলুন যে আপনি তাদের পাঠকদের জন্য ফ্রিতে একটি চমৎকার তথ্যবহুল আর্টিকেল লিখে দিতে চান (যেমন: আপনি যদি ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হন, তবে লোকাল কোনো লাইফস্টাইল ব্লগে লিখতে পারেন "ঢাকায় ছোট ফ্ল্যাট সাজানোর ৫টি আধুনিক উপায়")। আর্টিকেলের ভেতর থেকে খুব ন্যাচারালভাবে আপনার নিজের সাইটে একটি লিংক নিয়ে নিন।

ঘ. প্রতিবেশীর সাথে পার্টনারশিপ (Co-marketing)

আপনার নিজের এলাকায় এমন অনেক ব্যবসা আছে যারা আপনার সরাসরি প্রতিযোগী নয়, কিন্তু আপনাদের টার্গেট কাস্টমার বা অডিয়েন্স একই। তাদের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে লিংক এক্সচেঞ্জ করা যেতে পারে।

কৌশল: উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হন, তবে আপনার এলাকার কোনো ইন্টেরিয়র ডিজাইনার বা প্লাম্বিং সার্ভিস প্রোভাইডারের সাথে পার্টনারশিপ করতে পারেন। আপনারা একে অপরের ওয়েবসাইটে "Recommended Local Partners" বা "আমাদের পছন্দের সহযোগী" হিসেবে লিংক শেয়ার করতে পারেন। এতে উভয় ব্যবসাই নতুন কাস্টমার ও লিংক—দুটিই পাবে।

ঙ. লোকাল নিউজ ও পিআর (PR)

স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা আঞ্চলিক সংবাদপত্রগুলোর রিপোর্টাররা সবসময়ই আকর্ষণীয় লোকাল খবরের খোঁজে থাকেন। আপনার ব্যবসার কোনো বিশেষ ইভেন্টকে খবরের শিরোনাম বানাতে পারলে কেল্লাফতে!

কৌশল: আপনার ব্যবসা যদি কোনো ফ্রি সেমিনার, বড় কোনো ডিসকাউন্ট মেলা, বা সামাজিক কাজের আয়োজন করে, তবে তার একটি সুন্দর প্রেস রিলিজ (Press Release) তৈরি করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মেইল করুন। নিউজ পোর্টালগুলো যখন আপনার এই ইভেন্ট নিয়ে নিউজ করবে, তখন লেখার ভেতরে আপনার ব্যবসার নাম ও ওয়েবসাইটের লিংক উল্লেখ করে দেবে, যা অত্যন্ত পাওয়ারফুল আন-স্ট্রাকচার্ড সাইটেশন ও ব্যাকলিংক হিসেবে কাজ করবে।

চ. রিসোর্স পেজ লিংক বিল্ডিং

অনেক শহরের স্থানীয় ওয়েবসাইট বা ব্লগে "রিসোর্স পেজ" থাকে, যেখানে ওই এলাকার সেরা দর্শনীয় স্থান, সেরা হোটেল বা প্রয়োজনীয় সেবাসমূহের একটি কমপ্লিট গাইড বা তালিকা দেওয়া থাকে।

কৌশল: গুগলে সার্চ করে আপনার শহরের এমন সব গাইড পেজ খুঁজে বের করুন (যেমন: "Best Dental Clinics in Chittagong" বা "Top Attractions in Sylhet")। এরপর সেই সাইটের অ্যাডমিনের সাথে যোগাযোগ করে বিনম্রভাবে জানান যে আপনার ব্যবসাটিও এই তালিকায় যুক্ত হওয়ার যোগ্য এবং কেন এটি তাদের পাঠকদের সাহায্য করবে। তারা রাজি হলে খুব সহজেই একটি হাই-ভ্যালু লোকাল লিংক পেয়ে যাবেন।

ছ. লোকাল ডিরেক্টরি আউটরিচ ও ভাঙা লিংক খোঁজা (Broken Link Building)

আপনার এলাকার বিভিন্ন পুরোনো বা কম অ্যাক্টিভ লোকাল ডিরেক্টরি এবং ব্লগ সাইটগুলোতে অনেক সময় এমন অনেক লিংক থাকে যা এখন আর কাজ করে না (404 Error দেখায়)। কারণ সেই ব্যবসাগুলো হয়তো বন্ধ হয়ে গেছে বা তাদের ডোমেইন এক্সপায়ার হয়ে গেছে।

কৌশল: কোনো ফ্রি এসইও টুল বা ক্রোম এক্সটেনশন (যেমন: Check My Links) ব্যবহার করে আপনার এলাকার সাইটগুলোর ভেতরের ভাঙা লিংকগুলো খুঁজে বের করুন। এরপর সাইটের মালিককে মেইল করে জানান যে তাদের অমুক পেজে একটি ডেড লিংক আছে এবং তারা চাইলে সেই জায়গায় আপনার সচল ও প্রাসঙ্গিক ব্যবসার লিংকটি বসিয়ে নিতে পারে।

জ. স্থানীয় ইনফ্লুয়েন্সার ও রিভিউ লিংক বিল্ডিং (Product/Service Reviews)

বাংলাদেশে এখন ফুড ব্লগার, ট্রাভেল ব্লগার বা লোকাল লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সারদের বিশাল প্রভাব রয়েছে। তাদের নিজস্ব ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে লিংক নেওয়া বেশ কার্যকরী।

কৌশল: আপনার এলাকার জনপ্রিয় কোনো ব্লগার বা রিভিউয়ারকে আপনার আউটলেটে আমন্ত্রণ জানান অথবা আপনার প্রোডাক্ট/সার্ভিসটি ফ্রিতে ব্যবহারের সুযোগ দিন। এর বিনিময়ে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আপনার ব্যবসা নিয়ে একটি সততাভরা রিভিউ আর্টিকেল লিখতে বলুন এবং সেখান থেকে আপনার সাইটে একটি ব্যাকলিংক নিয়ে নিন।

ঝ. স্কলারশিপ লিংক বিল্ডিং (Scholarship Link Building)

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটগুলোর এক্সটেনশন সাধারণত .edu হয়ে থাকে, যা গুগলের চোখে অত্যন্ত হাই-অথরিটি এবং ট্রাস্টেড সাইট হিসেবে গণ্য হয়। এই সাইটগুলো থেকে লোকাল লিংক পাওয়ার এটি একটি চমৎকার টেকনিক।

কৌশল: আপনার শহরের বা দেশের কোনো কলেজ বা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ছোট অংকের স্কলারশিপের (যেমন: বার্ষিক ১০,০০০ বা ২০,০০০ টাকা) ঘোষণা দিন। আপনার নিজস্ব সাইটে স্কলারশিপের নিয়মাবলীর একটি পেজ তৈরি করুন। এরপর ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডমিনের সাথে যোগাযোগ করলে তারা তাদের ওয়েবসাইটের 'Financial Aid' বা 'External Scholarships' পেজে আপনার দেওয়া স্কলারশিপের বিবরণসহ আপনার সাইটের লিংকটি যুক্ত করে দেবে।

ঞ. লোকাল জব লিস্টিং (Local Job Listings)

আপনার ব্যবসায় যখনই কোনো নতুন কর্মী (যেমন: ম্যানেজার, এসইও এক্সপার্ট বা ডেলিভারি ম্যান) নিয়োগের প্রয়োজন হবে, তখন সেটিকে লিংক বিল্ডিংয়ের একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

কৌশল: শুধুমাত্র ফেসবুক বা বিডিজবসে সার্কুলার না দিয়ে, স্থানীয় বিভিন্ন ক্যারিয়ার গাইড সাইট, ইউনিভার্সিটি জব পোর্টাল বা এলাকার লোকাল কমিউনিটি ব্লগে ফ্রিতে আপনার জব সার্কুলারটি সাবমিট করুন। সেখানে "Apply Here" বা "Company Website" হিসেবে আপনার ক্যারিয়ার পেজের লিংকটি দিয়ে দিন। এটি যেমন আপনাকে দ্রুত লোকাল কর্মী খুঁজে পেতে সাহায্য করবে, তেমনই গুগলের কাছে চমৎকার লোকাল ব্যাকলিংক হিসেবে কাউন্ট হবে।

কীভাবে ফ্রিতে লোকাল লিংকের সুযোগ খুঁজে বের করবেন? (Prospecting Techniques)

লোকাল ব্যাকলিংক পাওয়ার কৌশলগুলো জানার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—এই লিংকের সুযোগগুলো ইন্টারনেটে খুঁজে পাওয়া। কোনো দামি পেইড টুল ছাড়া সম্পূর্ণ ফ্রিতে এবং বুদ্ধি খাটিয়ে কীভাবে স্থানীয় ব্যাকলিংক বা পার্টনারশিপের সুযোগগুলো খুঁজে বের করবেন, তার ২টি সেরা পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:

ক. গুগল সার্চ অপারেটর (Google Search Operators) ব্যবহার

গুগল সার্চ অপারেটর হলো কিছু বিশেষ কমান্ড বা কোড, যা সাধারণ সার্চ রেজাল্টকে ফিল্টার করে অবিকল আপনার প্রয়োজনীয় পেজগুলোকে সামনে নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে আপনি আপনার নির্দিষ্ট শহরের এমন সব ওয়েবসাইট খুঁজে পাবেন যা গেস্ট পোস্ট গ্রহণ করে কিংবা যাদের রিসোর্স পেজ রয়েছে।

কিছু কার্যকরী সার্চ কোড এবং উদাহরণ:

লোকাল রিসোর্স পেজ খোঁজার জন্য:

o    "Dhaka" + inurl:resources — এটি দিয়ে সার্চ করলে ঢাকার ভেতরের এমন সব সাইট চলে আসবে যাদের 'Resources' নামে পেজ আছে এবং যেখানে স্থানীয় ব্যবসার লিংক যুক্ত করার সুযোগ থাকে।

o    "Dhaka" + "local sites"

গেস্ট পোস্টিং বা লেখার সুযোগ খোঁজার জন্য:

o    "Chittagong" + "write for us" — চট্টগ্রামের স্থানীয় যেসব সাইট বা ব্লগ বাইরের লেখকদের কন্টেন্ট এবং লিংক জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাদের খুঁজে বের করার কমান্ড এটি।
o    "Bangladesh" + inurl:category/blog

স্থানীয় ডিরেক্টরি বা লিস্টিং সাইট খোঁজার জন্য:

o    "Dhaka" + "submit a site" বা "Dhaka" + "add business" — এর মাধ্যমে সরাসরি ঢাকার লোকাল ডিরেক্টরিগুলোর সাবমিশন পেজ আপনার সামনে চলে আসবে।

খ. প্রতিযোগীদের ব্যাকলিংক অ্যানালাইসিস (Competitor Spy)

আপনার এলাকার যে প্রতিযোগী ব্যবসাগুলো অলরেডি গুগল ম্যাপের টপ ৩-প্যাকে বা সার্চ রেজাল্টের প্রথমে র‍্যাংক করে আছে, তারা নিশ্চয়ই এমন কিছু শক্তিশালী লোকাল ব্যাকলিংক পেয়েছে যা আপনি পাননি। তাদের সেই গোপন লিংকের উৎসগুলো খুঁজে বের করাই হলো 'কম্পিটিটর স্পাই'।
যেভাবে ফ্রিতে বা কম খরচে এটি করবেন (Ahrefs / Semrush / Free Tools ব্যবহার করে):

1.    প্রতিযোগী সিলেক্ট করুন: প্রথমে গুগল ম্যাপে আপনার কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করুন এবং শীর্ষ ৩টি ব্যবসার ওয়েবসাইট ইউআরএল (URL) কপি করে নিন।

2.    টুলে ইনপুট দিন: Ahrefs, Semrush বা কোনো ফ্রি ব্যাকলিংক চেকার টুলে (যেমন: Ahrefs Free Backlink Checker) গিয়ে প্রতিযোগী সাইটের লিংকটি পেস্ট করুন।

3.    'Referring Domains' বা 'Backlinks' সেকশন চেক করুন: এবার তাদের ব্যাকলিংকের সম্পূর্ণ তালিকাটি ভালো করে লক্ষ্য করুন।

4.    লোকাল লিংক ফিল্টার করুন: দেখুন তারা স্থানীয় কোনো স্পোর্টস ক্লাবকে স্পন্সর করেছে কিনা, কোনো স্থানীয় নিউজ পোর্টালে ইন্টারভিউ দিয়েছে কিনা, নাকি কোনো নির্দিষ্ট লোকাল ডিরেক্টরি থেকে লিংক নিয়েছে।

5.    নিজেও সুযোগ লুফে নিন: প্রতিযোগী যে যে স্থানীয় সাইট থেকে লিংক পেয়েছে, আপনিও সেই সাইটগুলোর মালিকের সাথে যোগাযোগ (Outreach) করুন এবং আপনার ব্যবসার জন্য একটি ব্যাকলিংক আদায় করে নিন।

বাংলাদেশি মার্কেট বনাম গ্লোবাল মার্কেটে লোকাল লিংক বিল্ডিং

লোকাল লিংক বিল্ডিংয়ের মূল থিওরি সব জায়গায় এক হলেও, বাংলাদেশি স্থানীয় মার্কেট এবং আন্তর্জাতিক বা গ্লোবাল মার্কেটের (যেমন: ইউএসএ, ইউকে, কানাডা) কাজের ধরন ও স্ট্রাটেজির মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। নিচে দুই মার্কেটের জন্য কার্যকরী কর্মপদ্ধতি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

ক. বাংলাদেশি ব্যবসার ক্ষেত্রে (Local BD Market Strategy)

বাংলাদেশে প্রথাগত হাই-অথরিটি ব্লগ বা রিসোর্স পেজের সংখ্যা কিছুটা কম হওয়ায় এখানে লিংক বিল্ডিংয়ের জন্য ভিন্ন এবং স্মার্ট কম্বিনেশন ব্যবহার করতে হয়। এ দেশে ব্যবসা র‍্যাংক করানোর জন্য ফোরাম, ই-কমার্স ডিরেক্টরি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সমন্বয়ে একটি "লোকাল লিংক জুস" ইকোসিস্টেম তৈরি করা সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

•    বাংলাদেশি ফোরাম ও কমিউনিটি সাইট: টেকটিউনস (Techtunes), সামহোয়্যার ইন ব্লগ (Somewhereinblog), বা বিভিন্ন বাংলা ফোরাম সাইটে আপনার ব্যবসার ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কিত তথ্যবহুল পোস্ট বা ট্রিকস শেয়ার করুন। লেখার ভেতর থেকে খুব ন্যাচারালভাবে আপনার সাইটের লিংক যুক্ত করুন।

•    লোকাল ব্লগ এবং ই-কমার্স ডিরেক্টরি: বিডি শপার্স, বিভিন্ন লোকাল বিজনেস ডিরেক্টরি এবং রিভিউ সাইটগুলোতে নিজের ব্যবসাকে লিস্টিং করার পাশাপাশি তাদের ব্লগ সেকশনে গেস্ট কন্টেন্ট দেওয়ার চেষ্টা করুন।

•    ফেসবুক গ্রুপের কৌশলগত ব্যবহার: বাংলাদেশে ফেসবুক গ্রুপগুলো এক একটি বিশাল লোকাল হাব। সরাসরি স্প্যামিং বা লিংক শেয়ার না করে, বিভিন্ন বিজনেস ও এরিয়া-ভিত্তিক গ্রুপে মানুষের সমস্যার সমাধান বা কোনো তথ্য দিয়ে পোস্ট করুন এবং সোর্স বা বিস্তারিত জানার লিংক হিসেবে নিজের ওয়েবসাইটের ইউআরএল ব্যবহার করুন। গুগল এই সোশ্যাল ট্রাফিক এবং ম্যাপ ম্যাস-আপগুলোকে অত্যন্ত পজিটিভ লোকাল সিগন্যাল হিসেবে গণ্য করে।

খ. গ্লোবাল ক্লায়েন্টের ক্ষেত্রে (Global Market - Fiverr/Upwork)

Fiverr বা Upwork-এর মাধ্যমে যখন আপনি ইউএসএ, ইউকে, বা কানাডার মতো উন্নত দেশের ক্লায়েন্টদের জন্য লোকাল লিংক বিল্ডিং প্রজেক্ট হাতে নেবেন, তখন আপনাকে একটি প্রফেশনাল এবং দীর্ঘমেয়াদী আউটরিচ (Outreach) প্রজেক্ট মেইনটেইন করতে হবে। সেখানে কোনো প্রকার স্প্যামি বা অটোমেটেড লিংক কাজ করবে না।

সম্পূর্ণ প্রজেক্ট মেইনটেইন করার ধারাবাহিক ধাপসমূহ:

1.    নিখুঁত প্রসপেক্টিং (Prospecting): প্রথমে ক্লায়েন্টের ব্যবসার শহর (City) ও স্টেট (State) অনুযায়ী টার্গেটেড ওয়েবসাইট, লোকাল নিউজ পোর্টাল এবং ওই এরিয়ার চ্যারিটি বা স্পোর্টস ক্লাবের একটি তালিকা (এক্সেল শীটে) তৈরি করুন।

2.    ইমেইল ফাইন্ডিং (Email Hunting): Hunter.io বা Voila Norbert-এর মতো প্রফেশনাল টুল ব্যবহার করে ওইসব ডোমেইনের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি বা এডিটরদের অফিশিয়াল ইমেইল এড্রেস খুঁজে বের করুন।

3.    কাস্টমাইজড পিচিং (Email Outreach): জেনারেলাইজড বা কপি-পেস্ট মেইল না পাঠিয়ে, প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য কাস্টমাইজড এবং চমৎকার ইমেইল টেমপ্লেট লিখুন। তাদের জানান যে কীভাবে আপনার ক্লায়েন্টের ব্যবসা বা কন্টেন্ট তাদের স্থানীয় পাঠকদের উপকারে আসবে।

4.    ফলো-আপ (Follow-up Strategy): প্রথম মেইলে উত্তর না পেলে ৩ থেকে ৫ দিন পর ভদ্রভাবে একটি ফলো-আপ মেইল দিন। গ্লোবাল মার্কেটে বেশিরভাগ লিংক এই ফলো-আপ স্টেজেই কনফার্ম হয়।

5.    হোয়াট-ইফ সিনারিও এবং নেগোসিয়েশন: অনেক লোকাল সাইট বা চ্যারিটি অর্গানাইজেশন ব্যাকলিংক দেওয়ার বিনিময়ে ছোটখাটো স্পন্সরশিপ ফি বা অ্যাডমিন ফি দাবি করতে পারে। ক্লায়েন্টের বাজেট অনুযায়ী তাদের সাথে আলোচনা বা নেগোসিয়েশন করে ডিলটি ফাইনাল করুন এবং ক্লায়েন্টকে একটি লাইভ ব্যাকলিংক রিপোর্ট জমা দিন।

আপনার লোকাল লিংক বিল্ডিং চেকলিস্ট:

1.    [ ] ব্যবসার সঠিক NAP+W ডাটা শীট তৈরি করা।
2.    [ ] গুগল সার্চ অপারেটর ব্যবহার করে নিজের শহরের অন্তত ২০টি প্রাসঙ্গিক সাইটের তালিকা করা।
3.    [ ] শীর্ষ ৩টি প্রতিযোগী ব্যবসার ব্যাকলিংক প্রোফাইল অডিট করা।
4.    [ ] লিংক বিল্ডিংয়ের সময় হোমপেজ ও ইনার পেজের অনুপাত ঠিক রাখা। 

লোকাল লিংক বিল্ডিংয়ের সাধারণ ভুলসমূহ (যেগুলো এড়িয়ে চলবেন)

লোকাল ব্যাকলিংক তৈরির সময় অতি-উৎসাহী হয়ে কিছু ভুল করলে তা উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। গুগল লোকাল সাইটগুলোর ক্ষেত্রে ন্যাচারাল বা স্বাভাবিক প্যাটার্ন দেখতে পছন্দ করে। নিচে এমন ৩টি সাধারণ ভুল আলোচনা করা হলো যা আপনার অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত:

•    স্প্যামি বা কম কোয়ালিটির সাইট থেকে বালক (Bulk) লিংক কেনা: ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস বা বিভিন্ন সস্তা প্ল্যাটফর্ম থেকে একসাথে ৫০০ বা ১০০০টি "লোকাল ব্যাকলিংক" বা সাইটেশনের প্যাকেজ কেনা একটি বড় ভুল। এই লিংকগুলো সাধারণত অটোমেটেড সফটওয়্যার দিয়ে স্প্যামি এবং ডেড ডিরেক্টরি সাইটে তৈরি করা হয়। গুগল এগুলোকে খুব সহজেই ধরে ফেলে এবং আপনার সাইটকে পেনালাইজ (Penalty) করতে পারে। সংখ্যার চেয়ে লিংকের কোয়ালিটি এবং রিয়েল লোকাল ট্রাফিক সবসময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

•    লিংক নেওয়ার সময় অ্যাঙ্কর টেক্সট (Anchor Text) বৈচিত্র্যময় না রাখা: যে টেক্সট বা শব্দের ওপর ক্লিক করে আপনার সাইটে ভিজিটর আসে, তাকে অ্যাঙ্কর টেক্সট বলে। আপনি যদি প্রতিবারই হুবহু আপনার মেইন কিওয়ার্ড (যেমন: "Dhaka SEO Agency") দিয়ে লিংক নেন, তবে গুগলের কাছে এটি স্প্যামি বা ম্যানিপুলেটিভ মনে হবে। এর পরিবর্তে অ্যাঙ্কর টেক্সটে বৈচিত্র্য বা ডাইভারসিটি রাখুন। কিছু লিংক আপনার ব্র্যান্ডের নামে (যেমন: WowSaleBD), কিছু সরাসরি ইউআরএল (যেমন: wowsalebd.com) এবং কিছু জেনেরিক শব্দ (যেমন: Visit Website, এখানে দেখুন) দিয়ে তৈরি করুন。

•    শুধুমাত্র হোমপেজে লিংক নেওয়া (ইনার পেজকে অবহেলা করা): অনেকেই তাদের সব ব্যাকলিংক শুধুমাত্র ওয়েবসাইটের মূল হোমপেজের জন্য তৈরি করেন। এটি একটি বড় ভুল। আপনার ব্যবসার মূল সার্ভিস বা ক্যাটাগরি পেজগুলো (যেমন: আপনার স্পেসিফিক অফার পেজ বা প্রোডাক্ট পেজ) যদি কোনো লোকাল ব্যাকলিংক না পায়, তবে সেগুলো গুগলে র‍্যাংক করবে না। তাই লিংক নেওয়ার সময় হোমপেজের পাশাপাশি ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ ইনার পেজগুলোকেও টার্গেট করুন।

উপসংহার (Conclusion)

লোকাল লিংক বিল্ডিং সাধারণ ব্যাকলিংকের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এটি মূলত আপনার নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান বা জিও-টার্গেটের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।

স্থানীয় মার্কেটে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে স্থানীয় স্পন্সরশিপ, পার্টনারশিপ, লোকাল ডিরেক্টরি, গেস্ট পোস্টিং এবং পিআর (PR)-কে লোকাল ব্যাকলিংক পাওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকরী অর্গানিক মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয়টি হলো, কোনো প্রকার দামি পেইড টুল ছাড়াই আপনি শুধুমাত্র গুগল সার্চ অপারেটর এবং ফ্রি ব্যাকলিংক চেকার ব্যবহার করে আপনার নিজস্ব এরিয়ার শত শত লিংকের সুযোগ এবং প্রতিযোগী ব্যবসার গোপন ব্যাকলিংক সোর্স অনায়াসে খুঁজে বের করতে পারেন। তবে লোকাল মার্কেটে দীর্ঘমেয়াদী সাকসেস পেতে হলে স্প্যামি ও কম কোয়ালিটির বালক লিংক সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে এবং লিংকের অ্যাঙ্কর টেক্সটে অবশ্যই বৈচিত্র্য ধরে রাখতে হবে।

অলসতা দূর করে আজই আপনার ব্যবসার জন্য প্রথম ৩টি লোকাল লিংক খোঁজার কাজ শুরু করে দিন! এর জন্য প্রথমে নিজের শহরের লোকাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে টার্গেট করুন, সার্চ অপারেটর দিয়ে সঠিক সাইটগুলো খুঁজে বের করুন এবং প্রফেশনাল আউটরিচ শুরু করুন। লোকাল লিংক বিল্ডিং বা সামগ্রিক লোকাল এসইও-র কোনো ধাপে বুঝতে সমস্যা হলে অথবা আপনার মনে কোনো প্রশ্ন থাকলে এখনই নিচে কমেন্টে জানান!